১৯ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৫:৪৩; রবিবার ; ১৩ জুন ২০২১

প্রিয় পাখি চড়ুই

অনলাইন ডেস্ক: ০১ জুন ২০২১, ১১:২৯

প্রিয় পাখি চড়ুই। চড়ুই পাখি চিনে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তবে পাখিটি খুবি চঞ্চল প্রকৃতির হলেও মানুষের কাছাকাছি থাকতে ও বসবাস করতে পাখির পছন্দ। রবির আলো ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চড়ুইয়ের কিচিরমিচির গান গাইতে থাকে। তবে এরা নানা ছন্দে গান গাইতে পারে! তখন পরিবেশটাও অন্যরকম লাগে।

যেকোন লোকালয়ের সু-পরিচিত পাখি চড়ুই। এরা জনবসতির মধ্যে থাকতে অনেক পছন্দ করে। এই পাখিরা খড়কুটো, শুকনো ঘাস, ঘাসের পাতা দিয়ে বসতঘরের কোণে, দালানের কার্নিশে, কেউ কেউ পরিবেশ বান্ধব পাখি বলে ঘরের চার কোণে ডুলি বা ঝুড়ি বেঁধেও দেয়।

এদের প্রজনন মৌসুম মার্চের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাসজুড়ে খড়কুটো দিয়ে ঘরের কোণে বাসা তৈরি করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। এরপর বাসা তৈরি হলে ৪ থেকে ৬টি করে ডিম পাড়ে। ছানা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১৩ দিন। বাঁচা যখন উড়তে শিখে তখন আহারে সন্ধানে মা পাখির সঙ্গে এখানে সেখানে আহারের সন্ধান করে।

আর দেহের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। আলাদা করার সবচেয়ে সহজ উপায়টি হল এর মাথা ও মুকুটের দিকে লক্ষ্য করা। এই পাখি অনুরূপ একই রকম এবং মাথা, ঘাড় ও পুরো মুকুটের পালকের রঙ মরচে বাদামি। পুরুষ-স্ত্রী চড়ুই দেখতে আলাদা। পুরুষের মাথা ধূসর ও নীল মেশানো, ঘাড় পিঠ ও পাখনা খয়েরি লাল। চোখের পেছন থেকে ঘাড় অবধি মোটা গাঢ় লালচে বাদামি বর্ণের। লেজ ও লেজের গোড়া ধূসর বর্ণের। স্ত্রী পাখির রঙ ওপরের দিকে ধূসর বাদামি, তার ওপরে কালচে বা পিঙ্গল দাগ আছে, পেট সাদাটে। পুরুষ পাখিটি দেখতে বেশি সুন্দর এবং সে বেশি গান গাইতে পটু। মাঝে মধ্যে পুরুষ বা স্ত্রী চড়ুই পাখি একা একা বসে থাকতেও দেখা যায়।

পৃথিবীতে ৪৮ প্রজাতির চড়ুই দেখতে পাওয়া যায়। তবে জীববিজ্ঞানের মতে, এদের পরিবার ১১টি গণে বিভক্ত। ‘গৃহস্থালির চড়ুই’ তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত। এই পাখির আদি নিবাস ছিল মূলত ইউরেশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশে। তাছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, জাপান, কোরিয়া, ইরান, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারেও চড়ুই দেখা মিলে। এরা ঘাসের মধ্যে পোকামাকড় খুঁজে বেড়ায়। গাঁও গ্রামের মাঠে, ঘাটে, উঠানে, ঝোপ-জঙ্গলে, নদীর ধারে দল বেঁধে থাকে।

চড়ুই পাখি মানব কল্যাণে নিবেদিত। এরা ক্ষতিকর পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে যথেচ্ছ ভূমিকা রাখে। চড়ুই প্রধানত শস্যদানা, ঘাসের বিচির পাশাপাশি অসংখ্য পোকামাকড় খেয়ে থাকে। বিশেষ করে পোকার শুককীট, মুককীট বা লেদাপোকা, যারা শস্য উৎপাদনের অন্তরায়। এরা যেসব প্রজাতির পোকামাকড় খায়। চড়ুই এসব পোকার ক্ষতিকর আক্রমণ থেকে ফসল, সবজির ক্ষেত, বনাঞ্চল বাঁচিয়ে পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এতে চড়ুই পাখির কোনো জুড়ি নেই। কিন্তু ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর কারণে এসব খাবার খেয়ে মারা যায়।

প্রকৃতিতে চড়ুইয়ের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ও অনবদ্য অবদান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চড়ুইয়ের বিলুপ্তি বা ভক্ষণ নয়। আমাদের বসতবাড়ির চার কোণে চড়ুইয়ের বাস করার মতো ছোট ডুলি বা ঝুড়ি বেঁধেও যায়।

একদিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা, আরেকদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে ছোট্ট সোনামণিরাও আনন্দে আন্দোলিত হয়। শৈশবে না জেনে অনেক চড়ুই খেয়েছি। তারপর বর্ষীয়ানরা নির্দেশ করেন, এসব পাখি মারা ও খাওয়া উভয়ই অপরাধী বলে গণ্য। তবে পরিবেশ রক্ষায় চড়ুই পাখির কোনো জুড়ি নেই।

মোহাম্মদ মহসীন
প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৪৫