৮ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৪:৪২; রবিবার ; ১৩ জুন ২০২১

জরাজীর্ণ কুড়েঘরে একজন ত্যাগীর নেতার দুর্দিন ও দুঃসময়ের করুণ গল্প

ইউসুফ আরমান ০৮ জুন ২০২১, ১০:২৩

সরল বিশ্বাসী, পর উপকারি,
অনেকের প্রিয়, রয়েছে পরিচিতি।

কক্সবাজার শহরের তৃর্ণমূল একজন ত্যাগীর নেতার দুর্দিন ও দুঃসময়ের করুণ গল্প। যার ক্যান্টিনের ছোলা-মুড়ি-পেয়াজু ও চা খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে কলেজ ক্যাম্পাস মুখরিত করতো স্লোগানে স্লোগানে। যার কাছে এখনো বহু নেতা কর্মী ঋণী। আজ বহু জনপ্রিয় নেতা, বড়মাপের আইনজীবী, সুনামখ্যাত সাংবাদিক, বিখ্যাত ডাক্তার ও নামীদামী ইন্জিনিয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন কক্সবাজার সরকারী কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতো সময়ে অসময়ে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিতো। কিন্তু..............।

এক সময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা কক্সবাজার সরকারি কলেজের জিএস মুজিবুর রহমানের রাজনীতি দেখে মুগ্ধ হতেন ক্যান্টিনের মালিক ক্যান্টিন জাফর বা পান জাফর। ১৯৯০ গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। নিজেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আন্দোলন সংগ্রামে রাখেন অগ্রভাগে। মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে গিয়ে বিরোধী দলের হাতে হেন্যস্ত-নির্যাতিত-অপদস্ত হয়েছেন। নজর কাটেন নেতাদের। তারপর আলোচনায় আসেন জাফর। কক্সবাজার সদর উপজেলায় পৌরসভা ১২টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। কেবল একজন ত্যাগী নেতা জাফর আলমের কর্মকান্ড বিবেচনায় আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কর্মী হিসেবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কক্সবাজার সদর উপজেলায় পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ১৩ নং ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়। যেখানে জাফর আলম সভাপতি হিসেবে প্রায় এক যুগের ও বেশি ধরে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি রাজনীতিক জীবনে নিজের জন্য কিছু করেন নি। বরং অল্প আয়ে কোনো মতে চালিয়েছে ৭ জনের সংসার। ২ ছেলে কোরআনে হাফেজ বড় ছেলে দাওরাহ (এম.এ) ও ২ মেয়ে এম.এ ডিগ্রিধারী আরেক ১ মেয়ে বিবিএ অনার্স শেষ বর্ষে এবং ছোট ছেলে এখনো অধ্যায়ণরত। কক্সবাজার ঝিলংজার জানার ঘোনায় তার বাবার বসতভিটায় কোনোমতে আছে জরাজীর্ণ কুড়েঘরে। সেই কুড়ে ঘরে দীর্ঘ ৬৫ বছরের ভোগদখলীয় বসতভিটা দখল করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে একটি দখলবাজ সক্রিয় দল। সম্প্রতি বাড়ি সংস্কারের কাজ করতে গেলে তাদের বাঁধা দিচ্ছে দখলবাজরা। তাদের পরিবার ঝড় বৃষ্টির পানিতে ভিজছে এবং নারী-পুরুষের সীমাহীন কষ্ট পোহাচ্ছে। তারা মানবতের জীবন যাপন করছে। তারা কি এখন দূর্যোগ মোকাবেলা করবে নাকি তার নিজের চিকিৎসা কাজে দৌঁড়াবে কিংবা দখলবাজদের হাত থেকে নিজেদের বসতভিটা রক্ষা করবে?

বর্তমান কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ১৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জাফর আলম ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি বর্তমানে ঢাকায় জাতীয় ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবা মরহুম হাজী বাঁচা মিয়া ও ছিলেন একজন আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও সেবক। তার পুরো পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে শত ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করেও দলটি টিকে থাকার কারণ এই সব প্রান্তিক নেতা-কর্মৗরা। দলের দুঃসময়ে নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েও তারা দল ত্যাগ করেনি। জাফর আলম দলের সব আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সময়ের সেই সাহসী নেতা আর সংগঠক জাফর আলম এখন নিঃস্ব। তিনি নিজের সমস্যা নিয়ে কখনো কোন নেতার দ্বারস্থ হন নি। কাজেই জীবন দশায় তার বাবার ক্রয়কৃত সম্পত্তি বসতভিটা থেকে বেদখল করার অপচেষ্টা চালচ্ছে একটি কুচক্রি মহল। কক্সবাজার থানাধীন ঝিলংজা মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৪০৫, ১৭১৮ ও ৩৯৩ আন্দর আরএস দাগের নং- ৭২২৬,৭১৬৫ ও ৭১৬৬ এবং বিএস খতিয়ান নং ১৮৩০, ৭৭৯ ও ৭৬৯ আন্দর বিএস দাগ নং-২৩০৩১, ২৩০৩২, ২৩১৬৪ ও ২৩১৬৫ নং দাগের সম্পত্তি তার ভাই-বোনের নামে সৃজিত খতিয়ান ১৩৬৭০ নম্বরে ০.০৯৩০ একর জমি চূড়ান্তভাবে লিপি হয়েছে। একটি দখলবাজচক্র দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত পরিবার কে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে। এটি বর্তমান ক্ষমতাধর আওয়ামীলীগের জন্য খুবই লজ্জার। জাফর আলমের বসতভিটা রক্ষা করতে সকলের সহযোগিতা কাম্য ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান।

লেখক
ইউসুফ আরমান
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী
পৌরসভা, কক্সবাজার।
০১৮১৫৮০৪৩৮৮/০১৬১৫৮০৪৩৮
yousufarmancox@gmail.com

{এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। আমার কক্সবাজার অনলাইন -এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত লেখা বা মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে}


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ১১০