৮৭ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৯:১৯; রবিবার ; ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

টুং টাং শব্দ নেই কামার পল্লীতে

সাকিবুর রহমান ০৭ জুলাই ২০২১, ২২:১৬

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর জেলায় কামারশালাগুলোতে টুং-টাং শব্দে দিন-রাত চলতো কাজ। দা-ছুরি তৈরি, বিক্রি ও শাণ দিতে দিতেই দম ফেলার ফুরসত মিলতো না কামারদের। তবে বিদ্যমান মহামারী পরিস্থিতিতে পাল্টে দিয়েছে সেই চিত্র।

দেশে করোনা সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় এর লাগাম টানতে টানা ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে। এর ফলে বন্ধ সব ধরনের দোকানপাট। তাই আগের সেই কর্ম ব্যাস্ত চিত্র নেই কামারের দোকানগুলোতে।

শহরের বড় বাজার, আইবি রোড়, লিংক রোড, চাউল বাজার, নতুন বাহারছড়া, নুনিয়ারছড়া উপজেলা বাজারসহ বিভিন্ন কামারের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ব্যস্ততা নেই কামারদের। অনেক কামার দোকানে ঝুলছে তালা, বন্ধ দোকানপাট।

আশপাশের উপজেলাগুলোর চিত্র একই বলে খবর নিয়ে জানা গেছে। তবে সামনের সময়গুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলে দেওয়া দাবি এ পেশায় জড়িতদের। ‌

কামারা জানান, বছরের ১১ মাসে তাদের ব্যবসা হয় এক রকম, আর কোরবানীর ঈদের আগের এক মাসে ব্যবসা আরেক রকম। এই সময়ে দোকান খুলতে না পারলে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে জানান।

কামাররা আরও বলছেন, এক সময় তাদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। চাইনিজ ছুরিসহ নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী সস্তায় মিলছে দোকানে। ফলে তাদের তৈরি সামগ্রীর প্রতি মানুষ আকর্ষণ হারাচ্ছে।

স্বপন নামে এক কামার জানান, এই সময়টাতে গ্রাহকের অর্ডার নিয়ে ঠিক সময়ে ডেলিভারি দিতে দোকানে বাড়তি কর্মচারী নিয়োগ দিতে হতো। আগেভাগেই কাঁচা লোহা কিনে রাখতে হতো। শাণ দেওয়ার যন্ত্রে ব্যবহারের জন্য মজুদ করতে হতো কয়লা। শাটডাউনের বিধিনিষেধের কারণে সবকিছু শেষ। বাকি কয়েকদিন ব্যাবসা হলে অন্তত কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে। তাই আপাতত যেসব কাঁচা মালামাল আছে সেগুলো ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তারা।

এসব কামারের অধিকাংশই পূর্বপুরুষদের হাত ধরে এই পেশায় এসেছেন। বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রাংশের দাপটে কামার শিল্পে চলছে দুর্দিন। তারপরও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রেখেছেন অনেকে। 

নুনিয়ার ছড়ার বাদল নামের এক কামার বলেন, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ আনুষঙ্গিক খরচ দিয়ে সারাবছরই লোকসানে থাকতে হয়। এ লোকসান কাটিয়ে উঠতে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। কোরবানির আগের মাস থেকেই আমাদের ব্যবসা চাঙা হতো। কিন্তু এ বছরও সেই আশায় গুঁড়েবালি।

চাউল বাজার কামারপল্লীর মের্সাস রাজিব এন্ড ব্রাদাসের কর্মচারী রূপক বলেন, সাধারণত ঈদের এক মাস আগে থেকেই দা, ছুরি, বটি, ধামা তৈরি করা শুরু হতো। বিক্রি শুরু হতো কোরবানির এক সপ্তাহ আগে থেকে। অতিরিক্ত কাজের চাপের জন্য নিয়োগ দেয়া হতো অতিরিক্ত শ্রমিক। কিন্তু এ বছর মোটেও কাজ পাওয়া যায়নি। তাই দোকান খুলার অনুুমত পেলে পুরোনো ছুরি, দা, বটি, ধামা বিক্রির আশায়।

একই এলাকার সজল নামে এক কামার বলেন, এটি সবচেয়ে বড় কামারপল্লী। এখানকার সব দোকানেই বন্ধ, কাজ নেই। লকডাউন শুরু হলে ২০ হাজার টাকা কিস্তি নিয়েছিলাম। কোরবানি উপলক্ষে কাজ করে সেই কিস্তি পরিশোধ করার আশায় ছিলাম। এখন চিন্তায় আছি, কিভাবে এ টাকা দেবো।

কামারশালাগুলোতে দা, ছুরি, বটি বিক্রি হয়, মানভেদে নতুন দা ২৫০ থেকে ৪শ টাকা, ছুরি ১২০ থেকে ২শ টাকা, বটি ৩৫০ থেকে ৬শ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ২৫০ থেকে ৫শ টাকা এবং ধামা ৪শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। দা শাণ করাতে ২০ টাকা, ছুরি ১৫ টাকা, বটি ৩০ টাকা করে নিচ্ছেন কামাররা।

আর স্প্রিং লোহা (পাকা লোহা) ও কাঁচা লোহা, সাধারণত এ দুই ধরনের লোহা ব্যবহার করে এসব উপকরণ তৈরি করা হয়। 

স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামটা একটু বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণ গুলোর দাম তুলনা মূলকভাবে কম।