৯৪ মিনিট আগের আপডেট; রাত ১২:০২; রবিবার ; ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

পূর্ণিমার জোয়ারের পানিতে কোনাখালী বেড়িবাঁধ আরও ঝুঁকিতে, তিন গ্রাম প্লাবিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৬ জুলাই ২০২১, ১১:২৫

পূর্ণিমার প্রভাবে চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। কোনাখালী ইউনিয়নের তিনটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। 

কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা, কইন্যারকুম ও কাইদ্দ্যারদিয়া গ্রামে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। ওই এলাকার অন্তত কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। এতে উপকূলীয় ৭টি ইউনিয়নের মানুষ মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে তিনটি পয়েন্টে মরংঘোনা, কইন্যারকুম ও কাইদ্দ্যারদিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রায় ৭শ মিটার মতো ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রবল বেগে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ছে। জোয়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো গ্রামজুড়ে পানি থইথই করছে। সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্লাবিত হওয়ায় স্থানীয় লোকজন কষ্টে যাত্রাযাত করতে দেখা গেছে। ফলে বাঁধের পাশে বাস করা মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ণিমার জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা অনেক বেড়ে থাকে। তার সঙ্গে বৃষ্টির কারণে নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিন-চার ফুট বেড়েছে। মাতামুুহুরী নদীর প্রায় ৮০কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। বেশি ঝুঁকিতে আছে কোনাখালী, বিএমচর, সাহারবিল, পৌরসভার, দিগরপানখালী  বেড়িবাঁধ। মাতামুহুরী নদী ভাঙন রোধে টেকসই দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। 

কোনাখালী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা মনছুর আলম বলেন, ‘বর্ষায় মৌসুমে কোনাখালীর বেশ কয়েকটি পয়েন্টে সড়ক ভাঙতে ভাঙতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাউবো জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ সংস্কার করে। সেগুলো বর্ষায় জলে চলে যায়। ওই সব এলাকায় স্থায়ী টেকসই ব্লকের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে উপকূলীয় ৭টি ইউনিয়নের মানুষ বন্যা থেকে রক্ষা পাবে।’

পাউবো চকরিয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল মোর্শেদ বলেন, ‘বাঘগুজারা-কোনাখালী-বদরখালী সড়কের মাতামুহুরী বেড়িবাঁধের কাইদ্দ্যারদিয়া পয়েন্টে ১৫০ মিটার, কন্যারকুম পয়েন্টে ২০০ মিটার ও মরংঘোনা পয়েন্টে ১৬০ মিটার এলাকায় সাতটি প্যাকেজে ৩২ হাজার ৩৯টি বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধের ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। কাজটি শেষ হলে বেড়িবাঁধ ভাঙন রোধ হবে। জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হওয়া কাজ আগামী আগস্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।’  

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘কোনাখালীতে বেড়িবাঁধ ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।’

পাউবো কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোম্বামী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়া বাঁধ উপচে লোকায়ে পানি ঢুকেছে। বেড়িবাঁধ ভাঙন রোধে কোনাখালীর তিন পয়েন্টে জরুরী ভিত্তিতে শ্রমিকরা কাজ করছেন।’


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৭২