৪৪ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৮:৩৭; রবিবার ; ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার মাঝে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় - এমপি জাফর

বার্তা পরিবেশক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:৪৫

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এমএ বলেছেন- পঁচাত্তরের ১৫ আগষ্টের পর পাকিস্তানের চর জিয়ার সামরিক সরকার বার বার চেষ্টা করেছিল আওয়ামী লীগকে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে। সেই পরিস্থিতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী সংগঠনের রূপান্তর করেন। তৎকালীন স্বৈরাশাসকের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন।

সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, এর পর প্রথমবারের মতো ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় এনে একে একে জঞ্জালমুক্ত করার কাজে নেমে পড়েন। উন্নয়নের সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। সেই মেয়াদে অনেক কাজ তিঁনি করতে পারেননি। পরবর্তীতে আবারও আওয়ামী লীগকে কঠিণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করতে হয়। সেই কঠিণ সময়েও দলকে সুসংগঠিত করার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে একটানা তৃতীয়বারের মতো দেশকে পরিচালনা সুযোগ পান। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে গণতন্ত্রের, উন্নয়ন, সুশাসন, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

 

এমপি জাফর আলম বলেন, এখনো সেই পাকিস্তানের চর বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের দোসরেরা দেশের এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠিণ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে শেখ হাসিনার হাতে যতক্ষণ এই দেশের শাসনভার থাকবে ততক্ষণ কোন ষড়যন্ত্রে কাজ হবে না। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬ তম জন্মদিনে মহাল রাব্বুল আলামীনের কাছে একটাই চাওয়া বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের অতি আপনজন শেখ হাসিনাকে যাতে দীর্ঘায়ু দান করেন।  চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কোরআনখালি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে উপরোক্ত তথ্য তুলে ধরেন।

পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন আলমগীর চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি জাফর আলম। অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মোক্তার আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মুছা, শাহনেওয়াজ তালুকদার, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়ালিদ মিল্টন, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ, ছাত্রলীসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
 

এমপি জাফর আলম আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ়তা, যা অন্যদের চাইতে আলাদা। ২০১২ সালে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক যখন অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, সেই সময়ে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে ঘোষণা করেছিলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরি করবে।

গত ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে সেটি তিনি প্রমাণ করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রো রেল প্রকল্প কিংবা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ বহির্বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। শেখ হাসিনা সবার কথা শোনেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের বিবেক যা বলে সেটাই করেন, যা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায়। আর এ কারণেই বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।