৬৮৬ মিনিট আগের আপডেট; দিন ৪:৫৪; রবিবার ; ২৮ জানুয়ারী ২০২৩

আমেরিকা স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা নিতে চায়ঃ এই সংকট আন্তর্জাতিক ‘মারপ্যাঁচের খেলা’

আমার কক্সবাজার রিপোর্ট ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:১১

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে সামান্য সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী নিতে চায়। আর এর মধ্য দিয়ে রোহঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করছেন শরণার্থী ক্যাম্প এলাকার মানুষজন ছাড়াও দেশের বিজ্ঞজনেরা। আর বাংলাদেশের পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলছেন এটা আন্তর্জাতিক ’মারপ্যাচের খেলা’।

গতকাল বুধবার রোহিঙ্গা সংক্রান্ত  এক নীতিনির্ধারণী সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে  পরিকল্পনা মন্ত্রী এমন মত দেন।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। রাজধানীর একটি হোটেলে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয়, আন্তর্জাতিক যে মারপ্যাঁচের খেলা, সেখানে শুধু মিয়ানমার নয়, তুরস্কে প্রায় ৪০ লাখ শরণার্থী আছে। পৃথিবীর আরও অনেক জায়গায় এ ধরনের শরণার্থীরা আছে।’ কাউকে দোষারোপ করছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরণার্থী সংকটের কারণ পণ্ডিত ব্যক্তিরা জানেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বর্তমান সরকারের বার্তা সম্পর্কে এম এ মান্নান বলেন, ‘সবাই ভালো; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও ভালো। কিন্তু শেষবিচারে আমাদের নিজেদের ঘরে সমাধান খুঁজতে হবে।’ এ জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো নিয়ে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে, টানাপোড়েনের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে সমাজের নিম্নস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী ঐক্যের প্রয়োজন আছে। না হলে আমরা এ ধরনের বিষয়গুলো সমাধান করতে পারব না।’

সংলাপের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ‘দুরাশা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

মাকসুদ কামাল বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কারণে ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। পরিবেশ ও কৃষির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের হার কমছে। ২০১৮ সালে ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্যের আবেদন করে ৬৮৯ মিলিয়ন পাওয়া যায়। ২০২২ সালে ৮৮২ মিলিয়নের আবেদন করে পাওয়া গেছে মাত্র ৩৮৩ মিলিয়ন।

রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গা জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে ২০২৭ সালে তাঁদের চাহিদা মেটাতে প্রায় দুই হাজার ৭২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে, যা আগামী বছরের চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ।

ইউএসএআইডি বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ক্যাথরিন ডেভিস স্টিভেনস বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, এটি স্বীকার করতে হবে। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন, এ জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী ও টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

এদিকে আগামী ৪ ডিসেম্বর তিন দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারী  জুলিয়েটা ভ্যালস নয়েস। বাংলাদেশ সফরকালে তিনি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনসহ পুনর্বাসন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া পুনর্বাসনের জন্য ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের সঙ্গেও তার আলোচনার কথা রয়েছে। আর আইনি পন্থাগুলো মেনে রোহিঙ্গা পুনর্বাসন কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও বৈঠক করবেন তিনি।

মার্কিন কর্মকর্তার বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিবারভিত্তিক অর্ধশত রোহিঙ্গার একটি তালিকা দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্র পাঠাতে হলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অনুমোদনসহ বিভিন্ন নথি প্রস্তুতের বিষয় রয়েছে। তা নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, শুরুতে পাইলট ভিত্তিতে কিছু রোহিঙ্গা নিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এর উদ্দেশ্য প্রক্রিয়াটি সহজ করা। একবার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে গেলে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও চাহিদা আসবে।

সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। আমরা বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য চিহ্নিত করেছি, যারা সেখানে যেতে আগ্রহী। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে পুনর্বাসন করেছি। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করতে চাচ্ছি। রোহিঙ্গা সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র।’