১৪৬২ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৪:৩২; সোমবার ; ১৬ জুন ২০২৪

দীর্ঘ দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি সবুজবাজার টু লালজানপাড়া সড়ক

এম গোলাম রহমান পেকুয়া ২৪ জুলাই ২০২৩, ২২:৫৯

পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নে দীর্ঘ ১৬ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সবুজ বাজার টু লালজান পাড়া সড়কে।

দীর্ঘ ১৬ বছর সংস্কারবিহীন পড়ে আছে জনগুরুত্বপূর্ণ এ গ্রামীন জনপদ। চার কিলোমিটারের বেশি এ সড়কের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। এতে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত পাঁচ গ্রামের প্রায় দশ হাজার বাসিন্দাদের। যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে।

সরেজমিন দেখা যায়,২০-৩০ মিটার পরপর সড়কের ইটগুলো সরে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বেশিরভাগ অংশ ভেঙে সর হয়ে গেছে রাস্তার প্রস্থ। হেঁটেই এ সড়ক পার হতে হয় স্থানীয়দের।

লালজান পাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান,টেকঘোনা পাড়ার মো.ফোরকান বলেন,সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অন্তত ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী চলাচল করে। বর্ষায় হেঁটে চলাও দুস্কর।

রব্বত আলী পাড়ার আবদুল মোমেন বলেন,চার দলীয় জোট সরকারের আমলে সড়কটি উন্নয়ন হয়েছিল। প্রায় ২০ বছর আগে এ রাস্তায় ইট বসানো হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। জনপ্রতিনিধিরা বার বার উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন এ পথ দিয়ে হেঁটে চলতেও অনেক বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শিক্ষার্থী মো.ইসমাইল, সাদিয়া আফরোজা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন,দেড় কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয় আমাদের। খানাখন্দকে ভরে থাকা সড়কে এখন গাড়িও চলেনা। বর্ষায় কত বই খাতা নষ্ট করেছি। আমরা সরকারের কাছে এই সড়কের দ্রুত মেরামত চাই। মাছ ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন,লবনচাষী রবিন ও মো.আনিস জানায়,মফিজ উল্লাহর নাশি পয়েন্টে জোয়ারের সময় রাস্তা ডুবে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। রাস্তায় এলোমেলো ইটের টুকরো। হাঁটাও অনেক কষ্টের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম রহমান বলেন,শুধু একটাই দাবী সড়কটির সংস্কার। সড়কটির কারনে জনজীবন থমকে গেছে। প্রয়োজনে সড়ক সংস্কারের জন্য এলাকাবাসিকে নিয়ে মানববন্ধন করা হবে।

রাজাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল বলেন, এই সড়কটি পুরো রাজাখালীবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষ করে লালজানপাড়া,টেকঘোনাপাড়া, রগবতআলী পাড়া,বকশিয়াঘোনাপাড়া, সুন্দরীপাড়া, রায় বাপের পাড়া ও আমিলাপাড়া এলাকার মানুষের জন্য। এটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী হলে উপজেলা প্রাণকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ সহজলভ্য হবে। ভোগান্তি কমবে মানুষের। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা দরকার বলে মনে করি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর পেকুয়ার প্রকৌশলী আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন জন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার না হওয়াটা দুঃখজনক। মূলত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) জটিলতার কারণে এমনটি হয়েছে। খুব শিগগিরই এ সড়ক সংস্কারের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হবে।