১ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৩:৪৮; সোমবার ; ২০ মে ২০২৪

‘পারিবারিক মিলনমেলায়’ বাজল জয়ের বাংলা ঢোল

আমার কক্সবাজার ডেস্ক ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:৩৯

বরাদ্দ থাকলেও তা গ্রহণ করার উপায় ছিল না বিশ্বকাপের ম্যাচ কাভার করতে ধর্মশালায় আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদের। এই সফরে তো আর তাঁদের পরিবারের সদস্যরা সঙ্গী হয়নি। তাই গ্যালারি ভরাতে পরিবারের জন্য সৌজন্য টিকিট নিয়ে অবদান রাখার সুযোগ তাঁদের ছিল না।

অবশ্য এই ‘অফার’ শুধু তাঁদের জন্যই ছিল না।

হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিসিএ) মিডিয়া ম্যানেজার মোহিত সুদ জানালেন, সৌজন্য টিকিটের ব্যবস্থা ছিল ধর্মশালায় বিশ্বকাপ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশাজীবীর পরিবারের জন্যও, ‘আপনারা না হয় টিকিট নিতে পারেননি। কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিকরা তো আছেন। ওই যে দেখুন (প্রেসবক্সের পাশের গ্যালারির একটি অংশ দেখিয়ে), ওখানে এখানকার সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা আছে। তা ছাড়া এই বিশ্বকাপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো অনেক পেশার মানুষও।

সৌজন্য টিকিট দেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও।’

প্রেসবক্সের উল্টো দিকে স্টেডিয়ামের যে প্রশাসনিক ভবনে দুই দলের ড্রেসিংরুম, তার পাশের ‘পিংক’ গ্যালারির একাংশ যেমন ভরিয়ে তুলেছিল স্থানীয় পুলিশ বিভাগে কর্মরতদের পরিবারের সদস্যরা। এ রকম আরো অনেক পেশাজীবীর পরিবারও নিশ্চিতভাবেই সুযোগটি লুফে নিয়েছে। সুবাদে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের গ্যালারিতে যেন পারিবারিক এক মিলনমেলাই বসে গিয়েছিল।

যে মিলনমেলায় দিনের শেষে বাজল জয় বাংলার ঢোলও।

দিনের শুরুতে অবশ্য ঢোলের বাদ্যি বেশি জোরদার ছিল আফগান সমর্থকদেরই। এমনিতে তারা পৃথিবীর যেখানেই ক্রিকেট দেখতে যায়, বিচিত্র রঙের পোশাক-আশাকে সজ্জিত হয়েই শুধু যায় না, তাদের অনেকের হাতে থাকে বড় আকৃতির ঢোলও। নিজেদের দলের প্রতিটা উইকেট, বাউন্ডারি ও ছক্কা তারা উদযাপন করে ঢোলে বাড়ি দিয়েই। এই ম্যাচেও এর কোনো ব্যতিক্রম ছিল না।

বিশেষ করে টস জিতে সাকিব আল হাসান ফিল্ডিং নেওয়ার পর আফগানদের শুরুটা আশাজাগানিয়াই ছিল। ৮ ওভারেই ৫০-এর কাছাকাছি রান তুলে ফেলা হাশমতউল্লাহ শহীদির দল যখন দারুণ কিছুর স্বপ্ন দেখছে, তখন তাদের স্বপ্নেই সওয়ার আফগান সমর্থকরা গ্যালারিতে ঢোল বাজিয়ে উদযাপনে ব্যস্ত।

কিন্তু সেই চিত্র ক্রমেই বদলাতে থাকল। বদলাতে শুরু করলেন আসলে সাকিবই। নিজে বোলিংয়ে আসার পর দ্বিতীয় ওভারেই ভাঙলেন আফগানিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। 

এরপর যখন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও রহমত শাহ মিলে আরেকটি জুটিতে থিতু হয়ে গেলেন, তখনো সেটি ভাঙতে লাগল বাংলাদেশ অধিনায়ককেই। এবার ফেরালেন রহমত শাহকে। স্পিন খেলতে সমস্যা হচ্ছিল আফগান ব্যাটারদের। 

সাকিব আর মিরাজ মিলে তাঁদের জন্য কাজটি কঠিন থেকে কঠিনতরই করে চলছিলেন। অধিনায়কের মতো সাফল্য পেতে থাকলেন মিরাজও। আর শুরুতে ফুল লেংথের বোলিংয়ের মার খাওয়া পেসাররাও পরে কৌশল বদলে ফিরলেন প্রবলভাবেই। তাই আফগানদের শুরুর আশা ধুলায় মিশে গেল। একই সঙ্গে তাদের ব্যাটিংও।

এভাবে যতই আফগানিস্তানের ইনিংস শেষের পথ খুঁজে নিচ্ছিল, ততই গ্যালারিতে তাদের সমর্থকদের ঢোলের বাড়িতে ঢিমেতাল চলে আসছিল। শহীদিরা ১৫৬ রানে শেষ হয়ে যেতেই তারাও স্তব্ধ হয়ে গেল। 

ঢোল এক পাশে সরিয়ে রেখে শুধু খেলা দেখে যাওয়াতেই মনোযোগী হতে দেখা গেল তাদের অনেককে। স্টেডিয়ামে তবু ঢাক-ঢোলের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। 

তা অবশ্য আফগানরা নয়, বাউন্ডারি লাইনের পাশে বানানো কাঠের মঞ্চে উঠে নিয়মিত বিরতিতে বাজাচ্ছিলেন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে আসা চিয়ার লিডাররা। দুই দলের যেকোনো সাফল্যের পরই তাঁদের বাদ্য-বাজনা সক্রিয় হয়ে যাচ্ছিল। শেষে তাঁদের বাজনাও আর সবার জন্য থাকল না। সাকিবদের ছয় উইকেটের জয়ে তা যেন বাজল বাংলাদেশের বাংলা ঢোল হয়েই।

সেই বাদ্যি বাড়তি বিনোদন দিয়েছে মুফতে টিকিট পাওয়ায় গ্যালারিতে সমবেত হওয়া নানা পেশাজীবীর পরিবারের সদস্যদেরও।