৭১৩৯ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৮:৩৩; রবিবার ; ১৬ জুলাই ২০২৪

চকরিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থীকে গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ জুন ২০২৪, ১৮:৪৩

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মো. শামীম (১৬) নামের দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল শিক্ষার্থীকে রাতের আঁধারে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এ সময় চলন্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতর মারধর করতে থাকে ওই শিক্ষার্থীকে। মারধরের সময় চিৎকার শুনে পথচারী লোকজন এগিয়ে গিয়ে ওই গাড়ির গতিরোধ করে। এই অবস্থায় সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীকে ফেলে পালিয়ে যায়। 

এদিকে এই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা ছালেহা পারভীন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় গতকাল রবিবার রাতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য অভিযোগ দিলে সন্ত্রাসীরা ফের ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা মা ছালেহা পারভীন ও শিক্ষার্থী শামীমকে খুঁজতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে আশপাশ থেকে লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। দফায় দফায় এই ঘটনার পর থেকে পরিবার সদস্যদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শামীমের মা ছালেহা পারভীন জানান- তাদের বাড়ি উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুন বাগিচা গ্রামে। গত ৮ জুন শনিবার রাত সাড়ে এগারটার দিকে তাঁর স্কুলপড়ুয়া ছেলে শামীম ওষুধ কিনে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় পথিমধ্যে সেগুন বাগিচাস্থ নেজাম সওদাগরের বাড়ির পাশের চলাচল রাস্তায় শামীমকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ইজিবাইকে (টমটম) তুলে অপহরণের চেষ্টা চালায় একই এলাকার নায়েম, আবদুর রহমান, আবদুর রহিমসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। এ সময় সন্ত্রাসীরা ছেলে শামীমকে মারধর করতে থাকলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে। এ সময় এক সন্ত্রাসীকে স্থানীয় লোকজন ধরে ফেলার পর পুলিশের জাতীয় জরুরী সেবার ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ পৌঁছার আগেই আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে স্থানীয় লোকজন থেকে ওই সন্ত্রাসীকে ছিনিয়ে নেয়। 

ভুক্তভোগী শামীমের মামা হেফাজত মো. দেলওয়ার জানান- এই ঘটনার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করার কারণে সন্ত্রাসীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার দিবাগত গভীর রাতে বোনের বাড়িতে গিয়ে পরিবার সদস্যদের খুঁজতে থাকে। আবার কল করে এবং বিভিন্ন কায়দায় হুমকি-ধামকিও দেওয়া হচ্ছে তাদের। এই পরিবার সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ভুগতেছে। 

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এই সংক্রান্তে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা রুজু করাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’