৬৭৩ মিনিট আগের আপডেট; দিন ১০:৩৪; শুক্রবার ; ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

টাকার বিনিময়ে ডুলাহাজারা ছাত্রলীগের কমিটি: অডিও ভাইরাল

বিশেষ প্রতিবেদক ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:১১

চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আওতাধীন ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছের ৮মিনিট ২সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। এতে মোহাম্মদ আনাছ ৩০হাজার টাকার বিনিময়ে নেতা হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। 

অডিও ক্লিপে আনাছ দাবি করেন, সভাপতি পদ পেতে সাজ্জাদ হোসেনকে ১লক্ষ ৩০হাজার টাকা বেশী টাকা দিতে হয়েছে। এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার রাতে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এই অডিও ক্লিপ প্রকাশ করা হয়।

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের কয়েকদিনের মাথায় ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছিব হোছাইন এই কথোপকথন হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে হাছিব ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করে। অডিও রেকর্ডে দুইজনই পরিষ্কারভাবে পরিচয় দিয়ে কথোপকথন শুরু করে। 

২০১৯সালের ২৩জুলাই ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করে চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। ৮সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছ। কমিটি গঠনের ৮দিনের মাথায় ৮সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৫জন স্ব-ইচ্ছায় পদত্যাগ করে। 

৮মিনিট ২সেকেন্ডের একটি অডিও ক্লিপটি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ওই কথোপকথন থেকে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে ঢাকা যেতে পদ বিক্রি করতে হয় এমন কথাও বলেছে মোহাম্মদ আনাছ। 

আনাছ অডিও রেকর্ডের কথোপকথনে বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদটি পেতে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকিত হোসেনকে ৩০হাজার টাকা দিতে হয়। পরে আনাছের কাছ থেকে আকিত আরও টাকা দাবি করেন। 

তেমনি একই অডিও রেকর্ডে তার কমিটির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সভাপতি পদ পেতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফকে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেন বলে দাবি করেন। অনেক ইউনিয়নের ছাত্রলীগের নেতারা পদ উপজেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের লাখ টাকা দিয়ে পদ পায়নি। এমনটা অডিও রেকর্ডে হাছিবকে ক্ষোভের কথা জানান আনাছ।

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছের ৮মিনিট ২সেকেন্ডের ওই কথোপকথন থেকে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি টাকা বিনিময়ে বিক্রি করছে। 

ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগ তাদের পছন্দের কোন নেতাকে পদ দেয়নি। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছ টাকার বিনিময়ে পদ ভাগিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করেন।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অডিও ক্লিপের কিছু অংশ আমার কক্সবাজার পাঠকের জন্য করে তুলে ধরা হলো: 

অডিও ক্লিপ-https://www.facebook.com/863213667118208/posts/2200209470085281?sfns=mo

আনাছ: আসসালামু আলাইকুম...।
হাছিব: হাছিব বলছি..। 
আনাছ: হাছিব..।
হাছিব: কি অবস্থা। 
আনাছ: ভাল আছ..। 
হাছিব: ভাল.. তোমার কি অবস্থা..। 
আনাছ: এই তো আছি। হাছিব তোমাকে অভিনন্দন দেওয়ার জন্য ফোন দিয়েছি মিয়া। 
আনাছ: কিয়া..।
হাছিব: ওমা তুমি ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক.. তোমাকে অভিনন্দন জানাতে হবে না। 
আনাছ: হা হা হা ....। তোমার নাম ওই কমিটিতে লিখে ঘোষণা করে দিয়েছে শুনছি। শুধু পাবলিস্ট করা বাকী। 
হাছিব: আমার ইচ্ছা ছিল, আমি গিয়ে.. হয়তো তোমরা যেভাবে খারাপ (টাকার বিনিময়) বিষয়টি রিমুভ করা। তোমরা তো ওটার প্রতি বেশী ঝুঁকে গেছ। 
আনাছ: টাকা দিতে চাইলে আগে কমিটি নিতে পারতাম। 
হাছিব: টাকাপয়সা যা দেওয়া তো দিয়ে পেলেছ.... মিয়া।
আনাছ: তাদের মন মতো দিতে পারিনি। তাদের মন মতো দিতে হবে তো সবগুলো। তারা ঢাকায় যাচ্ছে খরচের টাকা দিয়েছি...।
হাছিব: কি মিয়া.. শুনছি বড় অঙ্কের টাকা দিয়েছ..। 
আনাছ: বড় অঙ্কের টাকা দিতে পারলে আগেও কমিটি দিয়ে দিত। 
হাছিব: ৩০হাজার বড় অঙ্কের টাকা। ৩০হাজার কি ছোট অঙ্কের টাকা?
আনাছ: ওর থেকে এটা ছোট অঙ্কের টাকা....। ডুলাহাজারা মতো কমিটির এটা ছোট অঙ্কের টাকা। 
হাছিব: ২০-৩০ টাকা দিয়ে কমিটি নিতে হয় নাকি। 
আনাছ: আমি তো ৩০হাজার দিয়েছি... অনেকে ১লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে খেয়ে পেলেছে বলছে তারা।
হাছিব: সভাপতির জন্য তো ১লাখ ৩০ দিয়েছে..।
আনাছ: শুনেছি...।
হাছিব: সভাপতির জন্য ১লাখ ৩০হাজার দিয়েছে।
আনাছ: মারুফ ভাইয়ের ঔদিকে...। 
হাছিব: ওই নেতাও ১০হাজার খেয়েছে..।
আনাছ: অনেক কষ্ট করে টাকাগুলো দিয়েছি... এখন চলতেও পারছি না। আবারও টাকা খুঁজছে.. কি করব বুঝছি না..।
হাছিব: টাকাগুলো কাকে দিয়েছ.. আকিতকে..
আনাছ: না... একটা ছেলে পাঠিয়েছিল...। 

আনাছ ও হাছিবের এই ৮মিনিট ২সেকেন্ডের অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের এমন বির্তকিত কর্মকা-ে চকরিয়ায় আওয়ামী লীগে চলছে নানা কানাঘুষা। 

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটি মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অনুপ্রবেশকারী, বিএনপি-জামায়াত, অছাত্র, যুবলীগ নেতাদের স্থান দিয়েছে। এতে জেলা ছাত্রলীগ তেমন কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একই ভাবে টাকার বিনিময়ে ২০১৯সালের ৩১জুলাই খুটাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি গঠিন করা হয়। ওই কমিটি সভাপতি মো. তায়েফ বিন আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। কমিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিলে নানা সমালোচনার ঝড় উঠে। সভাপতি মো. তায়েফ বিন আলী ২০১৬সালের একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার এজাহারভুক্ত ১নং আসামী। 

তায়েফ বিন আলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হলেও গঠনতন্ত্র না মেনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরিতে রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ইউনিয়ন যুবলীগের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি হলেও টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগের পদ কিনে নেন বলে প্রচার রয়েছে। 

ডুলাহাজারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনাছ অভিযোগ করে বলেন, এটা আমার রেকর্ডি নয়। বিষয়টি সাজানো হয়েছে।  

উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকিত হোসেন সজিবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ মারুফ বলেন, ‘কমিটি নিতে কে কাকে টাকা দিয়েছে সেটা আমি জানি না। তেমন সব ডকুমেন্ট আমার কাছে নেই।’


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৩০১২