৬৭১ মিনিট আগের আপডেট; দিন ১০:৩২; শুক্রবার ; ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

কষ্ট পেয়েছে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে ড্রপ দিচ্ছে চোখে

এম.আর মাহমুদ ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৯

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে গর্ভখালাস খ্যাত কাকারা সড়কটি সংস্কার হতে যাচ্ছে। সড়ক জনপদ বিভাগ ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে সড়কের কাজ শুরু করতে কার্যাদেশ দিয়েছে। এ খবর শুনে এলাকার বেশুমার মানুষ পুলকিত হয়েছে।

সড়কটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ইয়াংছা, সুরাজপুর, কাকারা, কৈয়ারবিল হয়ে শান্তির বাজার সড়ক। এ সড়ক দিয়ে লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, কৈয়ারবিল, বরইতলী ও লামা উপজেলার ইয়াংছার লক্ষ্যাধিক মানুষ যাতায়াত করবে। এতে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিবর্তন আসবে।

এ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকায় এসব ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ প্রতিদিন চরমভাগে ভোগান্তির শিকার হয়েছে। যা বলাও যায়নি, হজম করাও যায়নি। তবে বাধ্য হয়ে ‘গর্ভখালাস সড়কে আর্তনাদ শোনার কি কেউ নাই’ শিরোনামে একটি কলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখা হয়েছিল। বিলম্ব হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। এ জন্য শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ না দিলে কৃপণতা হবে।

বিশেষ করে চকরিয়া পেকুয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম সড়কটি সংস্কারে যথাসাধ্য ভূমিকা রেখেছে। গেল বর্ষায় এ সড়কটির উপর দিয়ে সিএনজি চালিত ট্যাক্সিতে করে একজন গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে গাড়ীতে গর্ভখালাসের ঘটনা ঘটেছে।

আসল কথা হচ্ছে এ সড়কের জিদ্দাবাজার হয়ে কাকারা মাঝের ফাঁড়ি পর্যন্ত অংশের অবস্থা সংকটাপন্ন। কি যে অবস্থা না দেখলে কারো পক্ষে মন্তব্য করা কষ্টকর হবে। এ সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় অনেকে মনের দুঃখে গান গাইতেন ‘যদি যেতে ইচ্ছা না হয় নরকে, সিএনজি যোগে যাবেন একবার জিদ্দাবাজার হয়ে মাঝেরফাঁড়ি সড়কে’।

তবে এলাকাবাসী সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হলেও সড়কটি সংস্কার হচ্ছে জেনে অতীতের কষ্ট ভুলতে শুরু করেছে। এ সড়কের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদার মূল পয়েন্টে কাজ না করে লামা উপজেলার ইয়াংছা হয়ে কাজ করে আসার পরিকল্পনা নিয়েছে। সড়কটি পুরোপুরি সংস্কার করতে বেশকিছুদিন সময় লাগবে।

সে ক্ষেত্রে ইয়াংছা হয়ে কাজ করে আসলে যে লাউ সে কদুর অবস্থায় থেকে যাবে। ঠিকাদারের এ ধরণের কর্ম পরিকল্পনার কথা শুনে বেরসিক এক ব্যক্তি তার অভিজ্ঞতার আলোকে একটি গল্পের অবতারণা করেছে “এক ব্যক্তি হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ হোচড় খেয়ে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলে মারাত্মক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যায়। ডাক্তারকে বলার পর তার বুড়ো আঙ্গুলের ক্ষত শুকাতে ঔষধ না দিয়ে তাকে দিয়েছে চোখের ড্রপ।

আহত ব্যক্তি ডাক্তার সাহেবের কাছে জানতে চাইলেন ব্যাপারটা কি? কষ্ট পেয়েছি পায়ের আঙ্গুলে চোখের ড্রপ দিলেন কেন? তখন ডাক্তার রোগীকে বলেন বসলেন, আগে চোখ ঠিক করো, পরে বুড়ো আঙ্গুলের ক্ষত সারাবো? চোখ ঠিক না হলে তুমি বার বার হোচড় খাবে আর পায়ে বা আঙ্গুলে কষ্ট পাবে। এ সড়ক সংস্কারের নিয়োজিত ঠিকাদার কেন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক বাদ দিয়ে অগুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ করতে যাচ্ছে তা কোনভাবেই মাথায় আসছে না।

এ ব্যাপারে কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জিদ্দাবাজার হয়ে কাকারা অংশের কাজ না করে ইয়াংছা হয়ে কাজ করলে এলাকাবাসীর দুঃখ কোনভাবেই লাঘব হবে না। বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করেছেন বলে দাবী করেছেন।

আসল কথা হচ্ছে ইয়াংছা অংশে কাজ শুরু করলে বিশাল একটি অংশ বেশিরভাগ মানুষের তদারকির বাইরে থাকবে। তাই ঠিকাদার পাহাড়ীয় অংশের কাজে অনিয়ম করার মানসে ইয়াংছা অংশ হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করেছেন।

এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা সোচ্চার না হলে কাকারা, সুরাজপুর ও লক্ষ্যারচর অংশের মানুষের দুর্ভোগ কোনভাবেই কমবে না। সড়ক জনপদ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন, জনস্বার্থে ঠিকাদারকে জনগুরুত্বপূর্ণ অংশে কাজ করার তাগাদা দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

 

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ১৩৩