৩৭৭ মিনিট আগের আপডেট; দিন ৬:১১; রবিবার ; ১৮ জানুয়ারী ২০২০

চকরিয়ার জিদ্দাবাজার-লামার ইয়াংছা সড়কে সংস্কার শুরু

আমার কক্সবাজার প্রতিবেদক ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:০৭

চকরিয়ার শান্তিবাজার-জিদ্দাবাজার-সুরাজপুর-ইয়াংছা সড়কের উন্নয়নকাজ অবশেষে তিন স্থান থেকেই শুরু করা হয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে তিন ইউনিয়ন বরইতলী, কাকারা এবং সুরাজপুর-মানিকপুরের যোগাযোগের মাধ্যম এটি। এতে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী লাখো মানুষের মনে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশা, ঠিকাদার শিডিউল মোতাবেক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণকাজ শেষ করবেন।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কের পুনঃনির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ঠিকাদারকে দেওয়া হয় কার্যাদেশ। কিন্তু যথাসময়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু না করায় ফের ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দেশনা ছিল আমার পক্ষ থেকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে।’ সড়কটি পুনঃনির্মাণের কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আলভী গ্রুপের সিইও মো. আবীর চৌধুরী বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কার্যাদেশ এবং শিডিউল মোতাবেক যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। কাজের মান বজায় রেখে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কাজটি যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য আমদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

কাকারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শওকত ওসমান বলেন, ‘সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের ইতি ঘটতে যাচ্ছে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই সড়কটি পুনঃনির্মাণ এবং বরাদ্দ পেতে অনেকদিন আমি এবং সাংবাদিক আসিফ সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত দৌঁড়েছি। কাজ শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

কাকারার প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আশা করবো, সিডিউল মোতাবেক টেকসইভাবে যাতে ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যথাযথ তদারকি করবে। কারণ অনেক চেষ্টা-তদবির এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির পর সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য সরকার যথাযথ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অতএব সরকারের এই টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু কুমার চাকমা বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সড়কটির শান্তিবাজার, জিদ্দাবাজার ও ইয়াংছা থেকে একযোগে কাজ শুরু করা হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় কাজটি এগিয়ে নিতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া আছে।’

সওজের চকরিয়া কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু আহসান মো. আজিজুল মোস্তফা জানান, সড়কটি পুনঃনির্মাণের জন্য সরকার ৫৭ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী দুই অর্থবছর তথা জুন ২০২১ সালের মধ্যে এই কাজটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা হবে। সড়কটিকে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হবে ১১টি।

জানা গেছে, বরইতলী ইউনিয়নের শান্তিবাজার থেকে জিদ্দাবাজার-বাদশাহর টেক-মাঝেরফাঁড়ি-সুরাজপুর-ইয়াংছা পর্যন্ত সড়কটি আয়তন ১৯ কিলোমিটার। বর্তমান প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হচ্ছে।

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৮৫