৫৩৮ মিনিট আগের আপডেট; দিন ৯:৩৪; শনিবার ; ০৪ এপ্রিল ২০২০

চকরিয়ায় গ্রামবাসির সঙ্গে বনকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষ, নারী-শিশুসহ আহত-১০

নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া ২১ মার্চ ২০২০, ০০:১৫

চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসির সাথে বনকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় বনকর্মীদের মারধরে নারী শিশুসহ কমবেশি ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মসজিদ এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

আহতরা হলেন, মসজিদপাড়া গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার (৩০), লাল মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৯), আনোয়ার হোসেনের শিশু পুত্র রাকিব উদ্দীন (১১) ও লাল মিয়ার শিশু কন্যা জিনিয়া (১২)। তাদেরকে আহত অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক অন্য আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছে, গতকাল সকালে বনকর্মীরা নতুন বিদ্যুৎ লাইনের মালামাল জদ্ধ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে ওই এলাকার নারী পুরুষ জড়ো তা ছিনিয়ে নেয়। এসময় বনকর্মীরা মারধর করলে অন্তত নারী- শিশুসহ ১০ জন হয়েছে।

এলাকাবাসি জানায়, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের নতুন মসজিদ গ্রামে দীর্ঘ কয়েকযুগ পর বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাজ শুরু করেছেন বেশ কিছুদিন ধরে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যুৎ লাইনের একটি অংশ বনবিভাগের জায়গায় পড়ার কারণে গ্রামের লোকজন কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের আওতাধিন চকরিয়ার মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটের সংশ্লিষ্টদেরকে ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে ম্যানেজও করেছে।

স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্মাণ কাজের শুরুতে ফের বনবিভাগের লোকজন বিদ্যুৎ লাইন নির্মান কাজে টাকা দাবী করে। এতে গ্রামবাসি আবারও টাকা দিতে অপরাগতা জানালে বনকর্মীরা বিদ্যুৎ লাইন কাজে বাঁধা দেয়। এরই একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে বিদ্যুতের মালামাল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে গ্রামবাসির সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় স্থানীয় ১০ নারী- শিশু আহত হয়েছে।

এলাকাবাসির দাবী, বিদ্যুতের মালামাল বনকর্মীরা ছিনিয়ে নিতে চাইলে গ্রামবাসি বাঁধা দেয়। এসময় ফুলছড়ি রেঞ্জার সৈয়দ আবু জাকারিয়া এলাকাবাসীকে গুলির হুমকি দেয়। তার নির্দেশে মেদাকচ্ছপিয়া বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন, খুটাখালী বিট কর্মকর্তা রেজাউল করিমসহ বনকর্মীরা গ্রামবাসীকে মারধর করেন। এতে গ্রামবাসি ছাড়াও কয়েকজন বনকর্মী আহত হয়েছে। তবে মারধরের বিষয়টি বনকর্মীরা অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারি বনসংরক্ষক (এসিএফ) সোহেল রানা বলেন, বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকে কেন্দ্র করে বনকর্মীরা বাধাঁ দিলে এতে বনকর্মীর ওপর হামলা করে এলাকাবাসী। এসময় বেশ ক’জন বনকর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বনকর্মীরা সরকারী মালামাল রক্ষায় কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের পক্ষে গত ক’মাস ধরে এলাকাবাসির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরদিকে বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে বাধা প্রদান করছে স্থানীয় বনবিভাগ। পক্ষে-বিপক্ষে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে গ্রামবাসি ও বনবিভাগ। বনবিভাগ মোটা অংকের টাকা নেয়ার পরও বাঁধা প্রদানের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৭১