২৫৫ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৫:৩১; বুধবার ; ০১ এপ্রিল ২০২০

খুটাখালী বনাঞ্চলের ফান্ডাছড়ি খালে তিনদিন ধরে ভাসছে হাতির মরদেহ

এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া ২২ মার্চ ২০২০, ০০:১০

কক্সবাজারের  চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকা ফান্ডাছড়ি ঝিরির পানিতে ভাসছে একটি বন্যহাতির মরদেহ। গত দিন ধরে হাতির মরদেহটি পানিতে ভাসলেও বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেনি। এ অবস্থার কারণে হাতির মরদেহ থেকে আশপাশ এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসি। 

এলাকাবাসি জানায়, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের অধিন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বনবিটের কালাপাড়া এলাকার অদুরে ফান্ডার ঝিরির কানাইয়া খোলা নামক ছড়াখালে গত ১৮ মার্চ সকালে কোন এক সময় একটি হাতির মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন। ওইদিন লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর বনবিভাগের স্থানীয় ভিলেজার বিষয়টি খুটাখালী বনবিট কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইয়েদ আবু জাকারিয়াকে অবহিত করেন। কিন্তু খালে ভাসমান অবস্থা থেকে হাতির মরদেহটি তিনদিনেও উদ্ধার করেনি বনকর্মীরা।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ তুলেছেন, বনবিভাগের ভিলেজার ও আশপাশ এলাকার জনসাধারণ বন্যহাতির মৃত্যু ও মরদেহটি ছড়াখালে ভাসতে থাকার বিষয়ে অবহিত করার পরও বনকর্মীরা কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিকদের অবগত করেন।

এরপর গতকাল দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফান্ডাছড়ি খালে ঝুপের আড়ালে হাতির মরদেহটি পানিতে ভাসতে থাকার বিষয়টি উৎঘাটন করেন। ধারণা করা হচ্ছে, কতিপয় শিকারীদল দাঁত লুটের জন্য কৌশলে বন্যহাতিটিকে হত্যা করে মরদেহটি পানির ঝুপের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে। 

পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকরা স্থানীয় বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়াকে মোবাইলে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, ডুলাহাজারা সাফারী পার্কের দায়ীত্বরত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাথে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। বিকাল আড়াইটার দিকে তিনি বনকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তবে ভেটেরনারী চিকিৎসক উপস্থিত হননি।

ভেটেরিনারী সার্জনের অনুপস্থিতির কারণে হাতির মৃত্যুর সুরতহাল রির্পোট তৈরী করতে ব্যর্থ হয়ে পরে বনকর্মীরা স্থানীয় কয়েকজন ভিলেজারকে মরদেহটি মাটিতে পুঁতে ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কিন্তু বনবিভাগের ভিলেজাররা শ্রমিক সংকেটর অজুহাতে হাতির মরদেহটি ভাসমান অবস্থা থেকে তুলতে ব্যর্থ হন। ফলে বেশ কদিন ধরে মরদেহটি পানিতে ভাসতে থাকায় মরদেহটির বিভিন্ন অংশে পঁচন ধরেছে। এতে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। 

জানতে চাইলে ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সৈয়দ আবু জাকারিয়াকে বলেন, এলাকার ভিলেজার ও খুটাখালীর বনবিট কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে ঘটনাস্থল থেকে হাতির মরদেহটি উদ্ধারপুর্বক মাটিতে পুতেঁ ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা শ্রমিক জোগাড় করে আজকালের মধ্যে কাজ সমাপ্ত করবে। 

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৬৪