২০ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৮:৩২; মঙ্গলবার ; ০২ জুন ২০২০

আমফান কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্থদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন

আহমেদ রেজা ২২ মে ২০২০, ১২:১৩

সকালে বাড়ি ফিরেছেন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, কিন্তু বাড়িতে ফিরে ঘর খুঁজে পাননি দক্ষিণবঙ্গের অনেক মানুষ। কারণ ২০মে ঘূর্ণিঝড় আমফান দেশের উপর বয়ে গেল ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়ে ।এই ঝড়ে অনেক মানুষ তার গৃহ হারিয়েছেন, হারিয়েছেন স্বপ্ন। আর অঙ্কিত হয়েছে করুণ এক চিত্র। সুন্দরবনের আশেপাশের জেলাগুলো মুলত প্রচণ্ড ক্ষতির মুখে পড়েছে।এমনিতেই এই অঞ্চলের মানুষ ঝড়ের সাথে লড়াই করেই বেঁচে থাকেন। ওসব এলাকার লোকজনের দাবি, আমফানের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূর্বের যেকোনো দুর্যোগের চেয়ে বেশি। ঘূর্ণিঝড়ে জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে, গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে, যা বিরাট বিপর্যের নির্মম প্রতিচ্ছায়া। দেশের মানুষ একদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যদিয়ে যাচ্ছেন, তার মধ্যে এই বিশাল ক্ষতি মানুষকে অসহায় করে ফেলেছে। এ দুঃসময়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় মানুষ নিজের ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং এর ফলে মানুষ জীবন রক্ষা করতে পেরেছে। তবে দু:খের বিষয়, বেশ কয়েকজন মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে সর্বনাশা ঝড়।

অন্যদিকে দেশে ফলের মৌসুম শুরুর গোড়াতেই ফলের রাজ্য রাজশাহী, চাঁপাইনবাগঞ্জে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আম ও লিচু বাগানের। এতে নিদারুণ বিপাকে পড়েছে আম চাষীরা। বিপুল পরিমাণ আম গাছ উপড়ে পড়েছে এবং টিকে থাকা আম গাছ থেকে প্রচুর সুস্বাদু আম মাটিতে ঝরে পড়েছে।একদিকে করোনা সংকটকালে বাজার ভাল নয়, তার উপর আম ঝরে যাওয়ায় চাষীরা হতাশায় সময় পার করছেন। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণের মানুষ যেমন সাতক্ষীরা,খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা,ভোলা সহ অনেক জেলায় জান-মালের যে ক্ষতি হয়েছে তা ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। কারণ তাদের ঘর-বাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে জমির ফসল, মারা গেছে অনেক পশু-পাখি যা তাদের আবার নতুন করে গড়তে হবে।

আমরা দেখেছি, ২০০৭ সালের সিডর,২০০৯ সালের আইলার মত প্রলয়ংকারী ঝড়ের মুখে পতিত হবার পর একটা দীর্ঘ সময় লেগেছিল মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ফিরতে। সরকারি সহযোগিতা ও বিদেশি বন্ধুদের অন্তরিক প্রচেষ্টা মানুষের পাশে ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন। তাই দেশের এই মানুষদের রক্ষার জন্য সরকারি -বেসরকারি সহায়তা ছাড়া উপায় নেই।আশা করা যায়, যুগ যুগ ধরে প্রাকৃতিক দূর্যোগের সঙ্গে লড়ায়ে টিকে থাকা বাঙালী আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, ফিরবে তাদের স্বপ্নের নীড়ে।

 

লেখক,

আহমেদ রেজা,

উপ-পরিদর্শক,

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

 

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ২১