৭৭ মিনিট আগের আপডেট; রাত ৭:৩৬; শুক্রবার ; ১০ জুলাই ২০২০

লকডাউনে মানুষের চলাচলে সীমাবদ্ধতা কাতারে বন্যপ্রাণীদের জন্য আশীর্বাদ

মারিহা আক্তার ২৮ মে ২০২০, ২৩:৫৯

করোনাভাইরাসের আক্রমণে কার্যত স্তব্ধ গোটা বিশ্ব। কিন্তু বিশ্বজুড়ে যে  স্থবিরতা চলছে তা প্রকৃতিকে দিয়েছে এক নতুন রূপ, এ যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভিন্ন রূপে বিকশিত হবার এক নতুন সম্ভাবনা!

করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে কাতারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। পৃথিবীকে যেখানে স্থবির রাখা হয়েছে ঠিক সেখানেই কচ্ছপ থেকে শুরু করে তিমি অথবা হাঙরের মত বড় বড় প্রাণীদের বিস্তার লাভ কিংবা বিচরণের জন্য এ এক সুযোগ হিসেবে কাজ করছে।

সূর্যাস্ত হলে  রাত্রি যাপনের উদ্দেশ্য  হাজারো পানকৌড়ি পাখির আনাগোনা ঘটে   কাতারের উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলের ছোট্ট একটি দ্বীপে।

চলাচলের নিষেধাজ্ঞা  সমুদ্রে নৌ চলাচল বন্ধ করে এ ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।

 আল জাজিরায় মতামত প্রকাশ কালে মেহসিন আলইয়াফি নামের এক পরিবেশবিদ বলেন " সর্বত্র আমরা এখন একটি স্বচ্ছ আকাশের নিচে বসবাস করছি"।

তিনি বলেন, শুধু আকাশ নয়, জলভাগ ও এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন।  ফলে নদী কিংবা সমুদ্রের কিনারায় মাছের আগমন ঘটছে, যা আগে খুব কমই দেখা যেতো।

আলইয়াফির ভাষ্যমতে, এত করে একটা বিষয় স্পষ্ট যে মানুষই দূর্যোগের মূল কারণ, আজ মানুষ গৃহবন্দী বলেই প্রকৃতি তার নিজের মতো করে প্রাণবন্ততা খুঁজে পেয়েছে।

কাতারের পরিবেশ মন্ত্রী আহমেদ আলী আলকুয়াইর বলছেন,  এই মহামারীর মধ্য দিয়ে প্রকৃতিতে  যে পরিবর্তন এসেছে, তা মানুষকে বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সহায়তা করছে। কচ্ছপ কিংবা পাখি, সব ধরনের প্রানীর সংখ্যা বাড়ছে।  কচ্ছপ প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায়   কিছু জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে ইতিমধ্যে।

প্রাকৃতিক পরিবেশে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলেও, দিনের দিনের পর দিন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে যা ব্যবসা বানিজ্য থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটা স্তরের গতি থামিয়ে রেখেছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন খাবার কিংবা ঔষধপত্র ছাড়া মোটামুটি সকল দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।

আপাতত ৩০ মে পর্যন্ত গাল্ফ স্টেটের সরকার সবকিছু বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। করোনাকালীন সাধারণ ছুটি   এবং ইদ উল ফিতরের ছুটি একসাথে পালিত হচ্ছে।

 বাইরে বের হওয়ার সময়  মাস্ক ব্যবহার কিংবা অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ জারি করেছে দেশটির সরকার।

ওয়াল্ডোমিটারের এক  হিসাবে দেখা যায়, কাতারে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০,৯১৪ জন, এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের।

আল জাজিরা থেকে ভাবার্থ লিখেছেন-

মারিহা আক্তার

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাবি


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৬৫