৬৭২ মিনিট আগের আপডেট; দিন ১০:৩৩; শুক্রবার ; ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

যেভাবে কাটছে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের দৈনন্দিন জীবন..

এম.জিয়াবুল হক ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:০৫

চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম দিনের শুরুটা করেন ফজরের নামাজ পড়ে। তারপর অফিস টাইম থেকে শুরু করেন সরকারি দপ্তরে জমে থাকা ফাইলপত্রের দেখভাল। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে উপজেলা পরিষদের এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উন্নয়ন কাজ সহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। ওইসময় নানা সমস্যা এবং বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে উপজেলা পরিষদে আগত জনগনের সাথে কথা বলেন। তাৎক্ষনিক সমাধান দেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। আবার যার মাধ্যমে কাজটি সমাধান করা যাবে তাকেই ডেকে ভুক্তভোগীকে সম্পৃক্ত করে দেন।

এভাবে সরকারি দপ্তরে কাজের ফাঁকে ফাঁকে বেরিয়ে যান নিজের ব্যবসা বাণিজ্য দেখভালে। আবার ফিরে এসে অফিসের কাজ থাকলে তা দেখেন। তবে প্রতিদিনই কোন কোন ইউনিয়নে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের আওতায় একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয় উপজেলা চেয়ারম্যানকে। তাঁর সাথে চলে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রাম। সব মিলিয়ে সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় জড়িত থাকেন তিনি।

অনুরূপভাবে গতকাল শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ছুটির দিন থাকলেও উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের দিনটি শুরু হয় প্রতিদিনের মতো কর্মব্যস্ততার মাধ্যমে। গতকাল একদিনে তিনি অন্তত ৬টি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। একটি বিয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে অভিভাবকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ জাফর আলম বলেন, দিনের শুরুতে সকালে চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা গ্রামে আমার বড়মেয়ের শাশুড় (বেয়াই) আবদুল হাকিমের জিয়াফত অনুষ্ঠানে অংশ নিই। নিজে উপস্থিত থেকে আগত মেহমানদের আপ্যয়নের ব্যবস্থা করি। দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থানের পর দুপুরে ছুটে যাই লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের জিদ্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা ওয়ার্কাস পাটির নেতা শ্রদ্ধেয় আবদুস শুক্কুর ভাইয়ের নামাজে জানাযায়।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেও বিকালে পরিদর্শন করে উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নের দুটি পুজা মন্ডপে। ওইসময় সনাতন ধর্মের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মন্দির কমিটি ও পুজা মন্ডপ কমিটির কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করি। শারদীয় দুর্যোগৎসব যাতে নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায় এবং পুজারীরা যাতে নিরাপত্তার মাধ্যমে উৎসব পালন করতে পারে সেই ব্যাপারে তাদেরকে নানাভাবে পরার্মশ দিই। অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে অবগত করি।

উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম বলেন, মন্দির গুলো পরির্দশন শেষে এদিন সন্ধ্যার দিকে যাই পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রয়াত সভাপতি সাহাব উদ্দিন ফরায়েজীর ছেলের বিয়ের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে। পৃথিবীতে বাবা বেঁচে নেই সেই কথা বুঝতে দিইনি ফরায়েজী ভাইয়ের ছেলেকে। ফরায়েজী ভাইয়ের শুন্যতায় আমি অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে কণের পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি। পরে ছেলে ও তাঁর মায়ের (ফরায়েজী ভাইয়ের স্ত্রী) হাতে নতুন বউকে তুলে দিই।

এদিকে রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম পরির্দশন করেছেন চকরিয়া কেন্দ্রীয় হরিমন্দিরে অনুষ্টিতব্য শারদীয় দুর্গোৎসবের অনুষ্ঠানমালা। এসময় তিনি উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মীয় র্শীষ নেতৃবৃন্দ এবং পুজা কমিটির সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলাম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, পৌরসভার কাউন্সিলর মকছুদুল হক মধু, কাউন্সিলর রেজাউল করিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ছবিঃ আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি সাহাব উদ্দিন ফরায়েজীর ছেলের এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে নববধু ও ফরায়েজীর স্ত্রীর সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম।

-এম.জিয়াবুল হক

 


সর্বমোট পাঠক সংখ্যা : ৪৯৩৪